ArticlesUncategorized

বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের জীবনের অসাধারণ কিছু গল্প

0

পৃথিবীর সবচেয়ে সফল উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীর নাম যদি আপনার কাছে জানতে চাওয়া হয় তাহলে, চোখ বন্ধ করলে যে নামটি প্রথমেই আপনার চোখে ভাসবে তিনি আর কেউ নন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস। সম্প্রতি ১১০ বিলিয়ন ডলারের  মালিক পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী এই ব্যক্তির জীবনের অসাধারণ সব গল্প নিয়ে থাকছে আজকের লেখনিতে।

কে এই জেফ বেজোস?

উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্সের প্রবর্তক জেফ বেজোস জন্মগ্রহণ করেন মেক্সিকোর আলবুকার্ক শহরে। ছোটবেলা থেকে প্রযুক্তির প্রতি ভালোবাসার কারণে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার প্রকৌশলে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশুনা শেষ করেই ১৯৯০ সালে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যুক্ত হন একটি ইনভেস্টমেন্ট ফার্মে। তখনকার সময়ে এত কম বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়টি খুবই অবাক করে সবাইকে। তরুণ মেধাবী জেফ বেজোস উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য উচ্চপদস্থ পদ থেকে পদত্যাগ গ্রহণ করেন।

Source: fortune.com

লক্ষ্য করুন, ঐ সময়ে ভালো মানের চাকরি থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য কত বড় চ্যালেঞ্জের ছিল। ফলেই সব বাধাকে প্রতিহত করে তরুণ এই উদ্যোক্তা ১৯৯৪ সালে অ্যামাজন ডট কম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম দিকে অ্যামাজনে ভার্চুয়াল বইয়ের বেচাকেনা থাকলেও এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সকল প্রকার জিনিস পাওয়া যায় অ্যামাজনে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে তিনি প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারে আমেরিকার প্রধান পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে কিনে নেন। উচ্চ মানের চিন্তাশক্তি এবং ব্যবসায়ীক দক্ষতা কৌতূহলী এই মানুষটিকে নিয়ে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির আসনে।

ব্যক্তিগত জীবন

জেফ বেজোস ইনভেস্টমেন্ট ফার্মে চাকরীরত অবস্থায় মার্কিন ঔপন্যাসিক ম্যাককেনজি টাটলের (MacKenzie Tuttle) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৯৩ সালে। পরবর্তীতে ধনী এই দম্পত্তি ১৯৯৪ সালে ওয়াশিংটনের সিয়াটেলে চলে আসেন এবং এখানেই অ্যামাজন প্রতিষ্ঠার সকল পরিকল্পনা করেন। তিন পুত্র এবং একটি মেয়েকে নিয়ে ছোট পরিবার বেজোস দম্পত্তির। তবে মজার বিষয়, পৃথিবী বিখ্যাত ধনী এই দম্পত্তির প্রত্যেকটি সন্তান দত্তক নেওয়া হয় চীন থেকে।

Source: voanews.com

গুণী এই ব্যক্তি ২০১৬ সালে  চলচ্চিত্র তারকা ট্রেইক বিয়ন্ডের সাথে স্টারফ্লিট নামক সিরিয়ালে অভিনয়ের মাধ্যমে মিডিয়া জগতেও পদার্পণ করেন।

প্রারম্ভিক জীবন এবং ক্যারিয়ার

মাতা জ্যাকলিন গেস জর্জেসেন এবং পিতা টেড জর্জেসেনের কোলে জেফ বেজোস এসেছিলেন ১২ জানুয়ারি ১৯৬৪ সালে মক্সিকোর আলবুকার্ক শহরে। পুত্রের জন্মের সময়, জ্যাকলিন গেস ছিলেন একজন ১৭ বছর বয়সী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। এর প্রায় ১ বছর পরই জর্জেসেন দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বেজোসের বয়স যখন ৪ বছর তখন তার মা জ্যাকলিন গেস পুনরায় কিউবান প্রবাসী প্রকৌশলী মাইক বেজোসকে বিয়ে করেন।

পরবর্তীতে বেজোস পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরে চলে আসেন। হিউস্টনে অবস্থানকালে জেফ বেজোস রিভার ওকস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির প্রতি ছিল তার অন্যরকম আকর্ষণ। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে বেজোস পরিবারের বদলী হওয়ায় জেফ বেজোসকে হাই স্কুল জীবন শুরু করতে হয় মিয়ামি পাম্পট্রিউ বিদ্যালয়ে। বুদ্ধিমান এবং পরিশ্রমী বেজোস স্কুল জীবন থেকেই একটি রেস্তোরায় পার্টটাইম কাজের মাধ্যমে প্রথম উপার্জন শুরু করেন।

Source: youtube.com

তিনি ১৯৮২ সালে ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট সায়েন্স ট্রেনিং প্রোগ্রামে যোগদান করেন এবং কৃতিত্ব সরূপ সিলভার নাইট পুরুষ্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। তরুণ মেধাবী বেজোস বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার সাথে সাথেই জনপ্রিয় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন ইন্টেল, বেল ল্যাব সহ অ্যান্ডারসেন কনসাল্টিংয়ের মতো জায়গায় চাকরির সুযোগ পান।

ফিতেল নামক আর্থিক টেলিযোগাযোগ সংস্থায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি প্রথম চাকরি জীবন শুরু করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং শিল্পের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ব্যাঙ্কার্স ট্রাস্টের প্রোডাক ম্যানাজার পদে দায়িত্ব পালন করেন। অ্যামাজন প্রতিষ্ঠার পূর্বে ৩০ বছর বয়সেই তিনি একটি ইনভেস্টমেন্ট ফার্মের ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা লাভ করেন।

অ্যামাজনের যাত্রা

১৯৯৩ সালের শেষের দিকে, বেজোস একটি অনলাইন বুকস্টোর শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং উচ্চপদস্ত চাকরী থেকে অবসর গ্রহনের মাধ্যমে ১৯৯৪ সালের ৫ জুলাই বাড়ির গ্যারেজেই শুরু করেন অ্যামাজন। দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত অ্যামাজন নদী থেকে মূলত নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের নামকরণ অ্যামাজন রাখার সিন্ধান্ত নেন জেফ বেজোস। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের ১৬ জুলাই তিনি এটিকে অ্যামাজন ডট কম নামক ই-কমার্স ওয়েবসাইটে রুপান্তরিত করেন যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট।

প্রতিষ্ঠার পরপরই অ্যামাজন ডট কমের সাফল্য ছিল ঈর্ষনীয়। কারণ কোনো প্রচারণা ছাড়াই, এটি প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জুড়ে প্রায় ৪৫টি বিদেশী লেখকের বই বিক্রি করে। এর ২ মাস পর বিক্রি প্রায় ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯৮ সালে বেজোস বইয়ের সাথে যুক্ত করেন চামড়া জাত পণ্য, ছোট বাচ্চাদের খেলনা, বিভিন্ন সিডি এবং ভিডিও সহ বিভিন্ন বিনোদনের সামগ্রী। এছাড়াও খুচরা অংশীদারিত্বের সংযোজন অ্যামজনকে নিয়ে যায় উন্নতির উচ্চ পর্যায়ে। এজন্যই ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫ লাখের অধিক বিক্রির ছাড়িয়ে গেলেও ২০১১ সালে তা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

Source: gradbee.com

২০০২ সালের দিকে জেফ বেজোসকে চরম এক পরীক্ষার মাধ্যেমে যেতে হয় কারণ ঐ সময় ব্যাংকের মাধ্যমে তিনি প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোন নেন ৩৫০ মিলিয়ন ডলার মূলধনের বিপরীতে। এত বড় লোনের ধাক্কা সামলাতে না পেরে কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তিনি বাধ্য হন তার সর্বোমোট কর্মচারীর প্রায় ১৪% ছাটাই করতে।

অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতি থেকে বুদ্ধিমান বেজোস খুব সফলভাবেই উত্তীর্ণ হন। ২০০৩ সালের দিকে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। নভেম্বর ২০০৭ সালে বেজোস অ্যামাজন কিন্ডলের যাত্রা শুরু করেন। এটি মূলত এমন একটি বই পড়ার ডিভাইস বা যন্ত্র যার মাধ্যে থাকছে সাবলীলভাবে বই পড়ার সুযোগ সহ অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ব্যবহার। ২০১৩ সালে তিনি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভারের নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেন।

একই বছরের অক্টোবরে অ্যামাজন পৃথিবীর সর্বোবৃহত অনলাইন বেচাকেনার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ২০১৭ সালের বেজোস প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সুকৌশলী বেজোস যখন দেখলেন অনলাইন বেচাকেনায় অ্যামাজনের  নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী আলিবাবা সাড়া পৃথিবী জুড়ে বিস্তার লাভ করার চেষ্টা করছে তখনই বেজোস সিন্ধান্ত নেন পৃথিবীর দ্বিতীয় জনবহুল রাষ্ট্র ভারতে অ্যামাজনে ব্যাবসা বৃদ্ধি করতে। অনলাইন শপিংয়ের এক নম্বরে থাকা অ্যামাজন এখন ভারত ছাড়াও পৃথিবীর বেশ কয়েকটি বড় বড় দেশে শক্তভাবে অবস্থান করছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

৬ ডিসেম্বর ১৮৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে নগদ অর্থায়নে কিনে নেন জেফ বেজোস। পত্রিকার বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পরবর্তীতে তিনি ন্যাশ হোল্ডিংস প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাটি ক্রয়ের পর এর উন্নয়নে বেজোস বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য তিনি পাচ্ছিলেন না। ফলে ২০১৪ সালের মার্চে ওয়াশিংটন পোস্টের অনলাইন ভার্শন বের করার সিন্ধান্ত নেন এবং ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তিক প্লার্টফর্মে ছড়িয়ে দেন। অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রথমবারের মতো ২০১৬ সালে এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

Source: americanlookout.com

নেতৃত্বশৈলী

জেফ বেজোস সবসময় রিগ্রেট মিনিমাইজেশন কাঠামো মেনে চলতেন। এটি মূলত এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি যেখানে আপনি নিজেই নিজের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং জীবনের সব বড় বড় সিন্ধান্তগুলো আত্ববিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করতে পারেন। বেজোস এই পদ্ধতিতে চলতে চেষ্টা করেন তার ব্যস্ততম কর্মময় জীবনে। তিনি তার জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন – “আমি ভাবতাম, আমার বয়স যখন ৮০ তখন কি আমি ইন্টারনেট তথা গুগলের প্রথম পাতায় অবস্থান করতে পারবো? হ্যাঁ, অবশ্যই পারবো।”

১৯৯০ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী থাকাকালীন তিনি প্রত্যেকটি পদক্ষেপে সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতেন এবং কর্মচারীদের প্রতিটি কাজের প্রতি আলাদাভাবে নজর রাখতেন। সফল এই উদ্যোক্তা সবসময় কর্মজীবনে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার প্রধান এবং অন্যতম উপায় হলো কর্মজীবনে ব্যালেন্স রক্ষা করা। তিনি আরো মনে করেন – “যারা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না তাদের নতুন এবং আকর্ষণীয় কিছু সৃষ্টি বা তৈরী করা উচিত না।”

Source: blog.pdffiller.com

মজার বিষয় হলো বেজোস অ্যামাজনের বিনিয়োকারীদের সাথে বছরে মাত্র ৬ ঘন্টার মিটিং করতেন। ১৯৯৮ সালের শুরুর দিকে তিনি অ্যামাজন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য একটি বার্ষিক চিঠি প্রকাশ করেন যেখানে প্রায় পাঁচটি নীতির উল্লেখ করেন। নীতি পাঁচটি হলো – প্রতিযোগীদের না গ্রাহকদের উপর মনোযোগ দেওয়া, বাজারে নেতৃত্বের ঝুঁকি নেওয়া, কর্মীদের ব্যবহার তথা নৈতিকতা উন্নত করা, কোম্পানীর নিজস্ব সংস্কৃতি নির্মাণ করা, ক্রেতাদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা।

প্রতিষ্ঠানের ভুল ত্রুটি সরাসরি প্রতিষ্ঠাতা বরারর পাঠাতে তিনি [email protected]amazon.com নামক উন্মুক্ত ইমেইল ব্যবহার করতেন। তবে সব ইমেইলের উত্তর না দিলেও তিনি সকল সমস্যা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতেন। তার নেতৃত্বশৈলীর অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিলেন ওয়ারেন বাফেট, জেমি ডিমন এবং বব আইগারের মতো গুণী ব্যক্তিবর্গরা।

অ্যামাজন ডট কম প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৭ সালে জেফ বেজোস প্রথম বারের মতো ৫৪ মিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার মাধ্যমে মিলিয়নিয়ারের কাতারে চলে আসেন। ১৯৯৯ সালে ১০.১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ অর্জনের কৃতিত্ব স্বরুপ ফোর্বসের দ্য ওয়ার্ল্ড’স বিলিয়নিয়রসের তালিকায় উঠে আসেন। পরবর্তী বছরগুলোতে তার মোট সম্পদের নানা উত্থান পতন দেখে সাড়া বিশ্ব। কোনো কোনো বছর এমনও দেখা গেছে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন থেকে নেমে ১.৫ বিলিয়নে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালে আবারও তার সম্পদের উন্নতি হলে তিনি শীর্ষ ধনীর র‌্যাঙ্কিংয়ের ৬৮ পজিশন থেকে ৪৩ পজিশনে উঠে আসেন।

২০১৫ সালে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় উঠে আসেন। মজার বিষয় এ সময় ১ ঘন্টায় ৭ বিলিয়ন ডলার অর্জনের মাধ্যমে তিনি শীর্ষ ৫ ধনীর তালিকায় উঠে আসেন সহজেই। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের মার্চে তার সম্পদের আবার ধ্বস নামে এবং সম্পদের পরিমাণ হয় ৪৫.২ বিলিয়ন ডলার। এর ঠিক ১ মাস পরে হঠাৎ করেই আবারো তার সম্পদের পরিমাণ বেঁড়ে দাড়ায় ৬৬.৫ বিলিয়ন ডলারে এবং সাথে সাথে তিনি শীর্ষ  ৩ এ চলে আসেন। ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর অ্যামাজনের শেয়ার ২.৫% বৃদ্ধি পেলে প্রথমবারের মতো তার সম্পদের পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় ১০০ বিলিয়নে।

Source: nowtheendbegins.com

বেজোসের সম্পদ ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এত দ্রুত বৃদ্ধি পায় যা তার বিগত বছরের সম্পদের পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে যায়। ১০ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখ তিনি ৫ মিনিটের মধ্যে আনুমানিক ৬.২৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেন যা কিরগিজস্তানের সমগ্র অর্থনৈতিক উৎপাদনের তুলনায় সামান্য কম। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ, বেজোসকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের ধনী ব্যক্তি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল, যার পরিমাণ ১১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তিনিই প্রথম নিবন্ধিত কেন্দ্রীয়-বিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে জানুয়ারী ২০১৮ পর্যন্ত তার সম্পদের পরিমাণ ৩৩.৬ বিলিয়ন বৃদ্ধি পয়েছে যা বিশ্বের ৯৬টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান। ৯ মার্চের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেজোস প্রতি মিনিটে আয় করেন প্রায় ২৬০,০০০ ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৮ সালের শেষে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৮১ বিলিয়ন ডলারে।

বিশ্বপ্রেমে বেজোস

প্রতি মিনিটে যে মানুষটি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি টাকা আয় করেন তিনি যদি মানবপ্রেমের উদ্দেশ্যে বিশ্বের জন্য কিছু না করেন তাহলে কেমন জানি লাগে বিষয়টা, তাই না বলুন? এজন্যই তিনি পরিচালনা করেন বেজোস এক্সপেডিংশন নামক অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও তিনি প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সিটেল জাদুঘর এবং প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের প্রিন্সটন নিউরোসাইন্স ইনস্টিটিউটের বেজোস সেন্টার ফর নিউরোলিক সার্কিট ডায়নামিক্স প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্যক্তিগতভাবে বেজোস ২০০৯ সালে প্রায় মিলিয়ন ডলার এবং ২০১০ সালে ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারে ২০ মিলিয়ন ডলার দান করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বেজোস ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৩৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে কলেজ বৃত্তির একটি তহবিল গঠন করেন। ১৫ জুন, ২০১৭ এক টুইট বার্তার মাধ্যমে জেফ বেজোস জানান তিনি মানবপ্রেমিক কৌশল সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী কিছু পরিকল্পনা করছেন এবং তিনি আরো বলেন এসব চিন্তা করতেই নাকি তার দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন।

Source: vulcanpost.com

উপরের ব্যক্তিটিকে কয়েক হাজার শব্দে বা কয়েকশত বাক্যে বিশ্লেষণ করা সত্যই খুব কঠিন। বুদ্ধিদীপ্ত, মেধাবী, অসাধারণ ব্যবসায়ীক মানসিকতায় পরিপূর্ণ এই ব্যক্তিটির জীবনের সফলতা কিংবা ব্যর্থতাগুলো হয়তো আপনাকে অল্প সময়ের জন্য হলেও অনুপ্রাণিত করবে এটা নিশ্চিত। তবে একটি কথা ভুলে যাবেন না বেজোসের মতো সফল হওয়ার সকল প্রকার সক্ষমতাও কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আপনার আমার সবার মাঝে দান করেছেন অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে। অসাধারণ সৃষ্টিশীলতা বললাম কারণ সফলতাগুলো একই গতিতে আসে না বা চলে না। একে খুঁজে নিতে হয় আপনার নিজস্ব সৃজনশীল দক্ষতার মাধ্যমে।

 

জর্জ ইস্টম্যান: ফটোগ্রাফি শিল্পের পথিকৃৎ

Previous article

ল্যারি পেজ: গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা হয়ে ওঠার গল্প

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in Articles