ArticlesUncategorized

কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির জন্য নানা পদক্ষেপ

0

কথায় আছে, ছোট ছোট বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল। অর্থাৎ যেকোনো কাজেই একবারে পরিবর্তন ঘটবে না। অফিসের কাজেও যদি আমরা সবার অংশগ্রহণ চাই তবে একবারে একদিনেই সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিবর্তে, ছোট ছোট ধাপের একটি যাত্রা করতে হবে, যেন কর্মক্ষেত্রে সবাই নিজেদের কাজ করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এটিই হলো কাজের জন্য সকলের অন্তর্ভুক্তি।

কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি অর্থাৎ অংশগ্রহণ ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়; image source: crownvocationaltraining.co.uk

মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সর্বদা প্রভাবশালী। অনেকেই হয়তো ভাবেন বা এমন করেন যে পুরো একটি বিশাল পরিবর্তনের চেষ্টা একবারে চেষ্টা করেন। অথচ পরে দেখা যায় তার সেই কাজের সাফল্যের পরিমাণ নিতান্তই কম। এরকম‌ই অফিসের সবাই একসাথে কাজ করতে গেলে ছোট ছোট ভাগ করে সবাইকে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারলে সবার‌ই কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ পাবে। এজন্য আমরা নিচের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি, যেমন-

১. অফিসের সবার মধ্যে সমতা

কোথাও কাজ করতে গিয়ে যদি দেখেন সেখানে কাজের মূল্যায়নের আগে গুরুত্ব পেয়ে যাচ্ছে কারো পোশাক পরিচ্ছদ, প্রাদুর্ভাব কিংবা কৃত্রিম ভালো মানুষী। অফিসের কোনো গোষ্ঠী যদি এরকম আচরণের মাধ্যমে একবার আলাদা গুরুত্ব পেয়ে যায়, বাকিরা তাদের তুলনায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আর এর প্রভাব দেখা যায় তাদের কাজের ফলাফলে। এটি যেকোনো কোম্পানির জন্য ক্ষতিকর। কেননা এ থেকে অনেকে কোম্পানির কর্মচারী মূল্যায়নের অক্ষমতার নীরব বার্তা পেয়ে যায়। আর কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই সবাইকে সমান গুরুত্ব দেওয়াটা অফিসের কোঅর্ডিনেশনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়েই কাজের মূল্যায়ন করতে হবে; image source: freerangestock.com

২. বৈচিত্র্য আনয়ন

যদি এমন হয় কোনো বিশেষ কাজের জন্য গঠিত একটি টিমে শুধুই ছেলেদের কাজ করানো হচ্ছে মেয়েরা সেখানে জায়গা পাচ্ছে না। কিংবা কেউ হয়তো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর থেকে আসায় সেখানে জায়গা পায় না- এ ধরনের আচরণে সবার মধ্যে অসন্তুষ্টি কাজ করতে পারে। সবাই যার যার যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশ করেছে, সবার‌ই সবক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ দরকার। গতানুগতিকভাবে চিন্তা করে শুধু নারী বলে, বা শুধু আদিবাসী বলে কাউকে কোনো কাজে সুযোগ না দেওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। এরকম সকল মানুষের উপস্থিতিকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে নয়, সবাইকে নিয়েই সাফল্য আসবে; image source: cdn.shrm.org

৩. কোম্পানির কাজের অগ্রগতি জানানো

যেকোনো কোম্পানির কাজের প্রসার ঘটাতে তাদের প্রচার‌ও ঘটাতে হয়। যথাযথ উল্লেখযোগ্য প্রচারের মাধ্যমেই কোম্পানির কর্মীদের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। কোম্পানি অফিসের উদ্দেশ্য কী, পরিবেশ কেমন, আগাম ভাবনা কী ইত্যাদি কাজের বিবরণ যখন সকল কর্মীর হাতে থাকে তখন তারা নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখতে পারে এবং কাজের প্রতি মনোযোগী হয়।

প্রচারের মাধ্যমেই কোম্পানির কর্মীদের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়; image source: dn.japantimes.2xx.jp

৪. কর্ম পরিবেশের পরিবর্তন

যদি আপনি এটি আপনার কর্মক্ষেত্রে করতে পারেন তবে আপনার ডেস্কটি ছেড়ে অফিসের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক ঘন্টার জন্য কাজ করে দেখুন। এই ব্যাপারটি কীভাবে আপনার কাজের দৃষ্টিভঙ্গিটিকে সত্যিই বদলে দিতে পারে তা দেখে আপনি অবাক হবেন। আপনি সাধারণত যাদের সাথে কথা বলেন না তাদের সাথেও যোগাযোগ ঘটতে পারে, অর্থাৎ আপনার নেটওয়ার্কিংও ভালো হবে।

কর্ম পরিবেশের পরিবর্তন দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দিতে পারে; image source: ronkitchens.com

৫. মিটিং এর লীড পরিবর্তন

এটি সবসময়ই সত্যি যে, অফিসের বেশিরভাগ মিটিং হয় খুব দীর্ঘ বা একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি। কিছু ক্ষেত্রে একই লোকের দ্বারা সম্পূর্ণ মিটিং পরিচালিত হয় বারংবার। দেখা যায় কেবল তিনিই কথা বলতে থাকেন আর অন্যরা চুপ করে থাকেন বা বঞ্চিত হন। তাই অফিসের মিটিং পরিচালনার দায়িত্ব গতিশীল রাখুন এবং পরিবর্তন করুন। মিটিং এর লক্ষ্যগুলোতে দৃষ্টি আকর্ষণ করুন এবং তা নিশ্চিত করে সেই ব্যক্তিকে সৃজনশীল হওয়ার সুযোগ দিন। এটি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে এবং এমন একটি সংকেত প্রেরণ করে যে প্রত্যেকেই তার নিজস্ব অবদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সৃজনশীলতাকে অভিবাদন জানাতে হবে; image source: txtacc.com

৬. অহেতুক অনুমান সরিয়ে রাখুন

কর্মক্ষেত্রে অন্যদের সম্পর্কে অনুমান করা সহজ এবং প্রায়শই স্বাভাবিক, অথচ এটি ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝি, পক্ষপাতিত্ব এবং প্রায়শই ভুল সিদ্ধান্তে ডেকে আনে। এজন্য “তিনি সম্ভবত খুব বেশি ব্যস্ত” এর মতো সাধারণ অনুমান হলেও – নিজেকে বিরত রাখুন। বরং সেই ব্যক্তিকে প্রথমেই প্রশ্ন করে জেনে নিন।

অহেতুক অনুমানে ভুল ধারণা বেশি; image source: previews.123rf.com

৭. কাজের কথার বাইরেও কথা বলুন

আপনার প্রতিদিনের কাজের দায়বদ্ধতার মাঝেও কোনো কোনো সহকর্মীর সাথে স্বাভাবিক কথোপকথনের মাধ্যমে কাজের বিরতি নিয়ে আসুন এবং কখনো কখনো তাদেরকে অ-কাজ সম্পর্কিত বিষয়ে জড়িত রাখুন। আপনি অফিসে কাজের বাইরে অন্যের সাথে সংযোগ খুঁজে বের করতে পারেন। এই সংযোগটি প্রায়শই কাজে স্বাচ্ছন্দ্যের উন্নয়ন করে এবং সামগ্রিক যোগাযোগকে বাড়িয়ে তোলে।

Networking with coworkers is necessary; image source: ak7.picdn.net

কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিস্তৃত এবং ভয়ঙ্কর হতে পারে কারণ ব্যক্তিরা কী ভূমিকা নিতে পারে তা সবসময় পরিষ্কার হয় না। আপনার একা মোকাবেলা করার জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসাবে এটিকে ভাববেন না। এর পরিবর্তে, নিজেকে একটি বৃহৎ ধাঁধার একটি অংশ হিসাবে বিবেচনা করুন এবং সামগ্রিকভাবে কাজের পরিবেশ উন্নত করতে আপনি কী করতে পারেন সেদিকে মনোনিবেশ করুন। এই ছোট ছোট বর্ধিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আপনি এখনই আপনার কর্মক্ষেত্রকে আরও বেশি লোকের অন্তর্ভুক্ত ঘটিয়ে (এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়) সুন্দর কর্ম পরিবেশ বানাতে পারেন।

Featured image source: recruiter.com

প্রতিষ্ঠানের সফলতা অর্জনের জন্য যে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়া অবলম্বন করবেন

Previous article

একজন স্ব-প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তা ও আমাদের অনুপ্রেরণা

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in Articles