ArticlesUncategorized

একজন স্ব-প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তা ও আমাদের অনুপ্রেরণা

0

সম্প্রতি ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বপ্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে বিবিসি তাদের “দ্যা বিবিসি’স উইকলি দ্যা বস সিরিজ” এর জন্য। তারা ভারতীয় ওষুধ সংস্থা বায়োকনের প্রতিষ্ঠাতা কিরণ মজুমদার-শ এর সাথে কথা বলে জানায়, কিরণ মজুমদারের কর্ম জীবনের শুরুতেই “না” শুনতে হয়েছিল। তাঁর ব্রিউইং এর উপর মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে যখন তিনি ভারতের একটি ব্রিউয়ারিতে চাকরি করতে চেয়েছিলেন, তখন প্রায় সব কোম্পানিই তাকে “না” বলেছিল কারণ তিনি ছিলেন একজন নারী।

ভারতীয় ওষুধ সংস্থা বায়োকনের প্রতিষ্ঠাতা কিরণ মজুমদার-শ; image source: images.livemint.com

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একজন মহিলার উপস্থিতি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল ভারতীয় বিয়ার কোম্পানিগুলো। মজুমদার-শ বলেন তারা খুবই অপ্রস্তুত এবং অস্বস্তি বোধ করছিল। ভারতে ব্রিউয়ার হিসাবে কাজ পেতে অক্ষম হয়ে তিনি পরিবর্তে ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসা “বায়োকন” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিবিসির তথ্যানুযায়ী বর্তমানে তাঁর কোম্পানির মূল্য ৪০০ বিলিয়ন রুপি বা ৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং মিস মজুমদার-শ এর ব্যক্তিগত সম্পদ অনুমান করা হয় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি তাকে ভারতের একমাত্র স্ব-নির্মিত মহিলা বিলিয়নিয়ার করে তুলেছে।

সকল দুঃখ কষ্ট হতাশা সহ্য করে, জীবনের ক্ষুদ্রতাকে ভুলে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে; image source: inspiringwomen.co.za

এই গল্পের প্রথম অংশটি আমরা প্রাত্যহিক জীবনে দেখতে পাই। নারী হিসেবে আমাদের কর্মক্ষেত্রের নানান পর্যায়ে এধরনের বাঁধা আসে। অনেক সময়ই মেয়েদেরকে অনেক কাজে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। অনেকে আবার মেয়েদের উপর দায়িত্ব দিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন যে তারা কাজটি সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারবে কিনা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে নারীর নেতৃত্বে কাজ করতে নারীরাই অসন্তোষ জানায়। আর এ অবস্থায় উপরের গল্পের পরের অংশটি প্রায় আকাশকুসুম কল্পনা। একজন নারী আবার সফল বিলিয়নিয়ার! তাও কি-না নিজস্ব একনিষ্ঠতা আর কর্মদ্যোমে, কোনো পুরুষের ছায়া ছাড়াই!

নারী হিসেবে আমাদের কর্মক্ষেত্রের নানান পর্যায়ে বাঁধা যেন এই ছবিটির মতই; image source: justbetweenus.org

একটু চিন্তা করলে আমরা নিজেরাই বুঝতে পারবো, আমরাই কি আমাদের অসম্ভব সম্ভাবনার পথকে রুদ্ধ করে রাখিনি? আমাদের নিজেদের মানসিকতাকে কি এখনো সেখানেই আটকে রাখিনি যেখানে পুরুষ নেতৃত্ব ছাড়া কাজ করা যায় না? যেখানে সফটওয়্যার এর কাজে এখনো নারীদের অবিশ্বাস করা হয়, এখনো ছেলেরাই বেশিরভাগে বড় প্রোজেক্টে কাজ করে যেন তাদের ছাড়া সেগুলো করা যায় না, এখনো নারীদের মধ্যে বৃহৎ উদ্যোগের অভাব, আমরাই আমাদের বিশ্বাস করতে চাই না। ফলে শুরুতেই প্রতিবন্ধকতার ভয়ে শিউরে উঠি।

প্রতিবন্ধকতায় নিজেকে বিশ্বাস করতে হবে; image source: roberthalf.com

অথচ কারোই জীবনের শুরুটা মধুর হয় না। কিরণ মজুমদার বলেন, “আমি মাত্র ২৫ বছর বয়সী ছিলাম, তাই ব্যাঙ্কগুলো অনুভব করলো যে আমি এমন একটি ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করছিলাম যা কেউই বোঝে না, আমিও বুঝাতে পারছি না, ফলে আমি প্রচুর ঝুঁকির মধ্যে ছিলাম।” এছাড়াও তিনি জানান যে তিনি একেবারেই অপক্ব ছিলেন ব্যবসায় আর তার হাতে ব্যাংক লোন ছাড়া ইনভেস্টমেন্ট বলতে আর কিছুই ছিল না। এথেকেই বোঝা যায় যে ভয় পেয়ে থমকে গেলেন চলবে না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নারীর অধিকার নারীকেই নিশ্চিত করতে হবে। অজ্ঞতা আর অন্ধকারের জীবনে পড়ে থাকার সময় আর নেই। সকলের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এখন আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।

অজ্ঞতা আর অন্ধকারের জীবনে পড়ে থাকার সময় আর নেই ; image source: bp.blogspot.com

বৃহত্তর ভারতীয় ব্যবসায়িক সম্প্রদায় দেখে, কিরণ মজুমদার জানান যে তিনি খুব হতাশ যে এখনও সংখ্যায় অধিক আত্মনির্ভরশীল নারী বিলিয়নিয়ার নেই। তবে তিনি আশাবাদী। কেননা ধীরে ধীরে সবকিছুর মধ্যে পরিবর্তন আসছে। তিনি মনে করেন আগামী ১০ বছরের মধ্যে বহু নারী বিলিয়নিয়ার আসতে চলেছে। মজুমদার-শ চান মহিলারা ব্যবসা নেতৃত্বে আরো অনেক বেশি এগিয়ে আসুক।

Some of the richest women, clockwise from top left: Iris Fontbona, Kwong Siu-hing, Abigail Johnson, Elizabeth Yang Huiyan, Jacqueline Mars and Laurene Powell Jobs; image source: cdn.i-scmp.com

এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশেই এখন ধীরে ধীরে নারী নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা বাড়ছে, কিন্তু পিছিয়ে রয়েছে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা। অথচ ব্যবসায় ঝুঁকি থাকবেই। সেই সাথে থাকবে নানা সমস্যা যেমন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আর পারিবারিক বেড়াজাল। এসব কিছুকেই পাশে রেখে এগিয়ে চলতে হবে। তা না হলে পরিবর্তন আসবে না। নারীর ক্ষমতায়ন করার চেষ্টা চেষ্টাই থেকে যাবে। ক্ষমতাশালী নারী আর কখনো দেখা হবে না। এই পরিবর্তন আনতে নারী পুরুষ ভেদে সবাইকে সম্মান দিতে হবে। সবার মধ্যে সমতা আনয়ন করতে হবে।

সব কিছুকেই পাশে রেখে এগিয়ে চলতে হবে; image source: kochiesbusinessbuilders.com.au

মজুমদার-শ বিভিন্ন সেমিনারে পরামর্শক হিসেবে থেকে নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি তাদের পরামর্শে বলেন যে “ব্যর্থতা অস্থায়ী, কিন্তু আশা ছেড়ে দেওয়া হলো চূড়ান্ত”। “তাই ব্যর্থতার ভয় নেই। সহ্য করুন এবং চেষ্টার শেষ পর্যন্ত দেখে নিন।” তাঁর কথা থেকেই তাই বলতে পারি, সকল দুঃখ কষ্ট হতাশা সহ্য করে, জীবনের ক্ষুদ্রতাকে ভুলে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। জীবনে নারী হিসেবে পিছিয়ে পড়ার গল্পতেই যেন আর আটকে না থাকি, দিন শেষে যেন তা জীবন বদলে যাওয়ার গল্প‌ও হয়!

Featured image source: completewellbeing.com

কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির জন্য নানা পদক্ষেপ

Previous article

নেতারা কর্মীদের থেকে কীভাবে ক্রমাগত উন্নতির অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকেন?

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in Articles